GoomZoom
Nonstop Entertainment

সামান্য মুদি ব্যবসায়ীর রোজগার আজ বছরে ১০০ কোটি, জেনে নিন প্রিয়া মেরি বিস্কুট কোম্পানির মালিকের অজানা ইতিহাস

প্রত্যেক সফল মানুষের পিছনেই থাকে তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও গভীর অধ্যবসায়। আজ সাফল্যের চূড়ায় থাকা মানুষটি একসময় খুব ছোটো কিছু থেকে শুরু করে এই জায়গায় এসে পৌঁছেছেন।

এঁদের মধ্যেই বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলেন প্রিয়া ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা গণেশ আগরওয়াল।

নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই তিনি মাত্র তিরিশ বছরের মধ্যেই নিজের এক সফল সাম্রাজ্য তৈরি করতে সফল হয়েছেন। তাঁর কোম্পানি আজ পূর্ব ভারতের বৃহত্তম ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাঁর বার্ষিক আয় এখন ১০০ কোটি টাকা।

বিভিন্ন ধরণের বিস্কুট তৈরি করার পাশাপাশি নানান ধরণের স্ন্যাক্সও তৈরি করে এই সংস্থা। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ডে রফতানি হয় এই কোম্পানির সামগ্রী।

জানা যায়, তাঁর বাবা একটি মুদির দোকান চালাতেন। সংসারের অবস্থাও স্বচ্ছল ছিল না। কিন্তু তাঁর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ভালোভাবে পড়াশোনা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। কলকাতার সিটি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন গণেশ আগরওয়াল।

কিন্তু এরপর বাবার সঙ্গে মুদির দোকান চালাতে শুরু করেন তিনি। কারণ সংসারে অভাব। তাঁর বাবার একার পক্ষে সংসার টানা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রায় ১৪ বছর মুদির দোকান চালান গণেশ আগরওয়াল।

এরপর নিজের ব্যবসা শুরু করার কথা মাথায় আসে তাঁর। কিন্তু কিসে ব্যবসা করবেন? গণেশ আগরওয়াল মুদির দোকান চালানোকালীন লক্ষ্য করেছিলেন যে অন্যান্য জিনিসপত্রের অভাব হলেও খাদ্যসামগ্রীর অভাব হয় না। এই থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে বিস্কুটের ব্যবসা করবেন।

এরপর লেগে পড়েন কাজে। সম্পত্তি বেচে, লোকের থকে ধার নিয়ে, ব্যাঙ্ক থেকে লোণ নিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে ১৯৮৬ সালে তৈরি করেন বিস্কুটের কারখানা। এখান থেকেই জন্ম হয় প্রিয়া বিস্কুট কোম্পানির।

ব্যবসা শুরু করার সময় বাজারে প্রতিযোগিতাও ছিল প্রচুর। কিন্তু হার মানেন নি গণেশ। নিজের সংস্থার প্রচারের জন্য ৫ জনের একটি দল গঠন করেছিলেন তিনি। এই দল জনে জনে গিয়ে এই কোম্পানির প্রচার করত।

এই সংস্থাই প্রথম শুরু করে গ্লুকোজ ও নারকোলের বিস্কুট বানানো। ভালো মানের অথচ দামে কম, এই ছিল তাঁর ব্যবসার কৌশল। সাফল্যও পেলেন তিনি।

ধীরে ধীরে বিস্কুট ছাড়াও নানান পণ্য তৈরি করতে থাকে এই কোম্পানি। আজ তাঁর কোম্পানিতে শত শত মানুষ কাজ করেন।

Comments
Loading...