GoomZoom
Nonstop Entertainment

মাত্র ২৯ দিনের শিশুর হাতেই সুস্থ হয়ে উঠলেন পুরীর জগন্নাথদেব! জানুন ভগবানের অপার মহিমার কথা

আজ রথযাত্রা। পুরীর জগন্নাথ দেব আজ মাসির বাড়ি যাত্রা করবেন। রথযাত্রার আগের দিন খুদে শিশুদের হাতেই সেবা নেন তিনি। খুদে শিশুদেরও দয়িতাপতি বলা হয়। রথ যাত্রা আগের দিন জগন্নাথ দেবের নতুন সাজ দেখতে সেবাইতরা হাজির হন।

এই সেবাইতদের মধ্যে শিশু দয়িতাপতিদের নিয়ে জোর আলোচনা হয়। তাদের কারো বয়স চার মাস, কারো ছয় মাস। এমনকি সবথেকে আলোচনার কেন্দ্রে ২৯ দিনের এক শিশু। তাদের ছোটো ছোটো হাতে তেল চন্দন মাখলেন জগন্নাথ। প্রথমে মন্দিরে এসে সকলেই কাঁদতে শুরু করেছিল। প্রভু জগন্নাথের কৃপায় সকলেই চুপ। মিষ্টি হাসি নিয়ে জগন্নাথের সেবা শুরু করলো তারা।

প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম পূর্ণিমার দিন হয় জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা। নিয়মমতে এই নির্দিষ্ট দিনে প্রভুর মূর্তি মূল মন্দির থেকে এনে স্নান মন্দিরে নিয়ে আসা হয়।সেখানেই সুগন্ধি জল দিয়ে স্নান করেন জগন্নাথ , সুভদ্রা, বলরাম। স্নানের পরে জগন্নাথ দেবকে সাজানো হয়। কিন্তু ১০৮ ঘড়া জলে স্নানের পরেই জ্বরে কাবু হন জগন্নাথ।তাই এই কটা দিন গৃহবন্দী থেকেই কাটান, একেবারে রথ পর্যন্ত বিশ্রাম নেন। এই সময় পুজো বন্ধ থাকে, দর্শন পায় না ভক্তরা। জ্বর সেরেই তিনি রথে করে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ।

রথযাত্রার আগে জগন্নাথ দেবকে সুস্থ করার জন্য বিশেষ সেবাইত নিয়োগ করা হয়। এবার সেই তালিকায় ছিল ২৯ দিনের এক শিশু। ২৯ দিন বয়সে নতুন দয়িতাপতির নিয়োগ বিরল। মন্দিরের রীতি মেনে , স্নানযাত্রার পর জগন্নাথের অসুস্থতাপর্ব, আরোগ্য, রথে আরোহণ থেকে উল্টোরথের পরে মন্দিরে ফিরে আসা এই সমগ্র বিষয়ে দায়িত্বে থাকেন সেবায়েতরা। জানা যায় , এরা প্রত্যেকেই আদিবাসী বা শবর বংশোদ্ভুত হন।

মনে করা হয়, এই মন্দিরে পুজো শুরুর আগে শবররাই নীলমাধব রূপে তাঁকে পুজো করতেন। পরবর্তীকালে পুরোহিতদের হাতে জগন্নাথ দেবের পুজো চালু হলেও শবরদের কিছু বিশেষ দায়িত্ব থাকে।শবর রাজকন্যা ললিতার স্বজাতি হিসেবে তাঁরা দয়িতাপতি নামে পরিচিত। জগন্নাথদেবেরর অসুস্থতা সময়ে শুধুমাত্র দয়িতাপতিদেরই সেবা করার অধিকার আছে।বংশানুক্রমে নতুন দয়িতাপতি নিয়োগ এই সময়েই হয়ে থাকে।

স্নানযাত্রার পরে ষষ্ঠী থেকে নতুন দয়িতাপতির নিয়োগ হয়। কোনো শিশু ২১দিন বয়স হলেই তারা সেবায়েত রূপে দীক্ষিত হবে। দয়িতাপতির পদ জন্ম থেকেই সংরক্ষিত থাকে। তারা দীক্ষা গ্রহণের পরে মন্দির থেকে ভাতাও পাবেন।রথের সময় সকলকে মন্দিরে আসতে হয়। সারাদিন মন্দিরে কাটাতে হয়।

জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা সুস্থ হওয়ার পর তাঁদের নব যৌবন পর্ব শুরু হয়। তিনদিন ধরে চলে এই পর্ব। করোনা পরিস্থিতির জেরে ভক্ত ছাড়াই এই অনুষ্ঠান হয়। গতকাল রাত থেকেই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ফলে কোনো ভক্ত এবারে অংশ নিতে পারবে না।

Comments
Loading...