GoomZoom
Nonstop Entertainment

‘এখন মনে হয় বেঁচে থাকাটাই আশ্চর্যের’, জন্মদিনে মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়া ভরত কলের বেদনাদায়ক উক্তি

জীবনভর অনেক কষ্ট করেছেন। তাই হয়ত নিজের ৫২তম জন্মদিনে এসে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন যে তাঁর মতো কষ্ট যেন কাউকে না করতে হয়। হ্যাঁ, কথা হচ্ছে ভরত কলকে নিয়ে। মারণ রোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কী করে তা হারিয়ে ফের জীবনমুখী হলেন তিনি। আজ নিজের জন্মদিনে সেটাই সকলের কাছে প্রকাশ করলেন অভিনেতা।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভরত কল জানান, “দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সবাই ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য। আমিও সেটাই করেছি। যখন দেখেছি লড়াই ছাড়া গতি নেই, দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গিয়েছি। একেক সময় মনে হয়, এখন বেঁচে থাকাই সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়। অতিমারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দাপটে জীবন তছনছ। কেউ ভাল নেই”।

আজকের দিনে ভরত কলের বারবার মনে পড়ছে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার কথা। ‘জিয়ন কাঠি’ ধারাবাহিকে ঐন্দ্রিলার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেই ঐন্দ্রিলাও লড়ছেন সেই মারণ রোগের সঙ্গে। ভরত জানান, দিল্লিতে গিয়ে নিজের চিকিৎসা করানোর সময়ও ঐন্দ্রিলা বারবার তাঁর খোঁজ নিয়েছেন। তিনিও ঐন্দ্রিলাকে আশ্বাস জুগিয়েছেন।

তাহলে জন্মদিন উপলক্ষ্যে কী প্ল্যান অভিনেতার? ভরত কল বলেন, “জন্মদিন উপলক্ষে কাজ থেকে ছুটি নিয়েছি। শ্যুট নেই। বদলে প্রযোজক বন্ধু নিসপাল সিংহ রানের সঙ্গে দেখা করলাম। সুশান্ত দাসের ‘দীপ জ্বেলে যাই’-এর হিন্দি রিমেক ‘রিস্তো কা মঞ্ঝা’-র কাজ শুরু হবে ২৯ জুলাই থেকে। হিন্দিতে মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে ক্রুশল আহুজা-আঁচল গোস্বামীকে। আঁচল বলিউডের একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। আমি ওঁর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করব। এ ছাড়াও যে কোনও সময় শুরু হয়ে যাবে দেবালয় ভট্টাচার্যের হিন্দি ওয়েব সিরিজ। সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে আমায়। অতিমারির কারণে বারে বারে এর শ্যুটিং পিছিয়েছে”।

জন্মদিন উপলক্ষ্যে কী স্পেশাল কিছু রান্না হচ্ছে তাঁর জন্য? অভিনেতা বলেন, “মা আর স্ত্রী জয়শ্রী মুখোপাধ্যায় মিলে জমিয়ে রান্নাবান্না করছেন। মা নিজের হাতে রাঁধছেন কাশ্মীরি রোগন জোস, আলুর দম। জয়শ্রী রাঁধছে বাঙালি মতে পাঁচ রকম ভাজা, ডাল, তরকারি ইত্যাদি। আমি সত্যিই ভাগ্যবান”।

জীবনে এত চড়াই উতরাই দেখেছেন ভরত কল। মৃত্যুকে খুব সামনে থেকে দেখেছেন তিনি। কিন্তু এত সবকিছু কাটিয়েও আরও বাঁচার স্বপ্ন দেখেন তিনি। না, নিজের জন্য নয়, নিজের পরিবারের জন্য, বিশেষ করে নিজের ছোট্ট মেয়েটার জন্য।

জন্মদিনে তাই ঈশ্বরের আছে একটাই প্রার্থনা তাঁর, “ঈশ্বরের কাছে আন্তরিক প্রার্থনা, অন্তত আরও ১৮ বছর যেন বেঁচে থাকি। ততদিনে মেয়ের পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে। আশা করি, নিজের পায়ে দাঁড়িয়েও যাবে। তখন ছুটি নেব। আমার বাবা আমার লড়াইয়ের নেপথ্য শক্তি ছিলেন। আমার মেয়ে মা-ঘেঁষা। কিন্তু সমস্যা পড়লেই আমার কাছে ছুটে আসে। আমি চলে গেলে ওকে সমস্যা থেকে টেনে তুলে লড়াইয়ে ফেরাবে কে?” নিজের জন্মদিনে এমন কথা বলে যেন অন্যান্যদের চোখেও খানিকটা জল এনে দিলেন অভিনেতা।

Comments
Loading...